ইউরোপ কাজের ভিসা-ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
ইউরোপ কাজের ভিসা বা ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হলো ইউরোপের কোন দেশে বৈধভাবে কাজের জন্য সরকার অনুমতিতে ভিসা। ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ইউরোপ গিয়ে থাকেন।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়ম কানুন রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ইউরোপ কাজের ভিসা বা ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি ভালোভাবে পড়ুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি?
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ধরনসমূহ
- ইউরোপে কোন কোন দেশের ভিসা চালু আছে
- কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়
- ইউরোপের দেশগুলোতে কোন সেক্টরে কাজের সুবিধা বেশি
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে বয়স কত লাগে
- ইউরোপ যেতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কাগজপত্র সমূহ
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
- ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- লেখকের মন্তব্যঃ ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
অনেকেই ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চান। আজকের এই
আর্টিকেলটি তাদের জন্য। বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে কাজের জন্য প্রথম শর্ত
হলো ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। ইউরোপের দেশগুলোতে কাজের অনুমতি পাওয়ার উপায়
হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। ইউরোপের দেশগুলোতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার
জন্য একেক দেশে একেক রকম নিয়ম রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে ভারত যেতে কত টাকা লাগে
সেই নিয়মগুলো মেনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করলে সহজেই আপনি ভিসা পেয়ে
যাবেন। এক এক দেশে একেক নিয়ম হলেও কয়েকটি মূল পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি ইউরোপ
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে পারেন। আজকের এই আর্টিকেলে ইউরোপ ওয়ার্ক
পারমিট ভিসা কি এবং কিভাবে সহজেই ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া যায় সে
সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো-
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি?
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হল ইউরোপের দেশগুলোতে কাজের বৈধতা পাওয়ার
উপায়। ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মাধ্যমে আপনি ইউরোপের দেশগুলোতে কাজ করার
অনুমতি পান। তবে এই ভিসা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নিয়ম নীতি
রয়েছে। আপনি ইউরোপের যে দেশে যেতে ইচ্ছুক
সে দেশের সকল নিয়ম কানুন মেনে ইউরোপ পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার উদ্দেশ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের ইউরোপের
দেশগুলোতে কাজের বা চাকরির ব্যবস্থা করা। যেহেতু ইউরোপের দেশগুলোতে জনশক্তি কম
তাই তারা অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর জন্য বাইরের দেশগুলো থেকে নিজের দেশে কাজ
করার জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। আর ইউরোপ ওয়ার্ক মিট পারমিট ভিসা হলো
বিদেশী নাগরিকদের সেখানে কাজ করার কাজের লাইসেন্স।
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ধরনসমূহ
সারা বিশ্বে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ইউরোপে
এই চাহিদা আরো বেশি। ইউরোপের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ায় এসব দেশে
যাবার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু তারা ইউরোপের ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ধরন
সম্পর্কে অবগত নন। যার কারণে অনেক প্রবাসী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার
সম্মুখীন হয়ে থাকেন।
আরো পড়ুনঃ ছেলেরা তেতুল খেলে কি হয়
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য ভিন্ন ভিন্ন নীতি মালা রয়েছে।
তাই আপনাকে প্রথমেই ইউরোপের কোন দেশে যেতে চান সেটা নির্বাচন করতে হবে।
তারপর সেই দেশের ওয়ার্ক পারমিট নীতি মেনে আবেদন করতে হবে। সাধারণত ইউরোপে
বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিট নীতি রয়েছে। তবে প্রচলিত কয়েকটি নীতি নিচে
উল্লেখ করা হলো-
- জব সিকার ভিসাঃ ইউরোপের দেশগুলোতে কাজ খোঁজার জন্য প্রচলিত একটি ভিসা হচ্ছে জব সিকার ভিসা। এটি এমন একটি ভিসা যার মাধ্যমে আপনি ইউরোপের দেশগুলোতে গিয়ে তারপর সেখানে কাজ বা চাকরি খুঁজতে পারবেন। এবং তার মাধ্যমে আপনি সেখানে কাজ করতে পারবেন। এতে আপনাকে কোন কোম্পানির অধীনে না থেকে সরাসরি ইউরোপ গিয়ে কাজের সন্ধান করে আপনাকে কাজ করতে হবে। এবং আপনার কোন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া লাগবে না। এই ভিসাটি সাধারণত জার্মানি ও অস্ট্রিয়া এর মত কিছু দেশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দিয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে কাজের সন্ধান করে সেখানে কাজ করতে হবে।
- সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসাঃ সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সাধারণত নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য খোলা থাকে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই কাজের জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এসব দেশ মূলত মৌসুমী অথবা পর্যটন খাতের কাজের জন্য এসব লোক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এসব কাজের জন্য শিক্ষাগত কোন যোগ্যতা লাগে না। তবে এসব ভিসার জন্য কাজের যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ইতালি এবং নেদারল্যান্ড এ প্রচুর পরিমাণে লোক নেওয়া হয়ে থাকে।
- স্কিলড ওয়ার্ক ভিসাঃ এই ভিসাটি মূলত দক্ষ কর্মীদের জন্য। এই ভিসাটি পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। স্কিলড ওয়ার্ক ভিসাই যুক্তরাজ্য প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও জার্মানি নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশেও এই ভিসাতে লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে।
- ইউরোপিয়ান ব্লু কার্ড ভিসাঃ ইউরোপিয়ান ব্লু কার্ড ভিসা সাধারণত প্রচলিত একটি কর্মী ভিসা। এ ভিসায় প্রতিবছর অনেক লোক ইউরোপের দেশগুলোতে গিয়ে থাকেন। তবে এটি শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত লোকদের জন্য প্রযোজ্য। এই এই ভিসারটির মাধ্যমে আপনি ইউরোপে সেনজেন ভুক্ত দেশগুলোতেও যেতে পারবেন।
- স্পন্সর ভিসাঃ ইউরোপের কোন দেশের কোন কোম্পানি যদি আপনাকে চাকরির অফার লেটার দিয়ে থাকেন এবং সেটি যদি সরকার অনুমোদিত হয় তাহলে আপনি এই ভিসার মাধ্যমে সেই দেশে গিয়ে কাজ করতে পারবেন। এটি অনেক আগে থেকেই প্রচলিত একটি ভিসা।
ইউরোপে কোন কোন দেশের ভিসা চালু আছে
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে প্রথমে জানতে
হবে ইউরোপে কোন কোন দেশের ভিসার কার্যক্রম চালু রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোতে
যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে বর্তমানে ইউরোপের কোন দেশের ভিসা চালু আছে।
কেননা ইউরোপের যে দেশগুলোতে তাদের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে আপনি যদি সেই
দেশের ভিসার জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনি সে দেশের ভিসা পাবেন না।
তাই আপনি ইউরোপের কোন দেশের ভিসা আবেদন করার পূর্বে সেই দেশের ভিসা চালু আছে নাকি
নিশ্চিত হয়ে তারপর আবেদন করবেন। ইউরোপের অল্প কিছু দেশের এম্বাসি
বাংলাদেশের রয়েছে । আর বাকি দেশ গুলোতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ
ভারতের এম্বাসি ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে ঢাকা এম্বাসির মাধ্যমে ইউরোপের
যেসব দেশের ভিসা চালু রয়েছে সেগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হল-
- ফিনল্যান্ড
- পোল্যান্ড
- আইসল্যান্ড
- লাটভিয়া
- নেদারল্যান্ড
- সুইডেন
- লুক্সেমবার্গ
- স্লোভেনিয়া
কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়
অনেক ভাই ও বোন ইউরোপের কোন দেশগুলোতে কম খরচে যাওয়া যায় সে বিষয়ে জানতে
চান। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ইউরোপের কোন দেশগুলোতে কম খরচে যাওয়া যায় সে
সম্পর্কে আলোচনা করব। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে হলে সাধারণত বে
ভিসার খরচ অনেক বেশি হয়ে থাকে। তারপরও অনেক বাংলাদেশী ভাই ও বোন প্রতিবছর
ইউরোপের দেশগুলোতে ভ্রমণ ও কাজের জন্য গিয়ে থাকেন। বর্তমানে ইউরোপের যে
দেশগুলোতে কম খরচে ভিসা পাওয়া যায় সেই দেশগুলোর নাম হলো-
- পর্তুগাল
- ফ্রান্স
- মালটা
- বুলগেরিয়া
- সাইপ্রাস
- পোল্যান্ড
- গ্রিস
- নেদারল্যান্ডস
- রোমানিয়া
- লিথুয়ানিয়া
- এস্তোনিয়া
উপরের এই দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আপনি তুলনামূলক কম খরচে যেতে পারবেন। এছাড়াও
এসব দেশের ভিসা নীতি প্রক্রিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই সহজ। আশা করি
আপনি ইউরোপের কোন দেশগুলোতে কম খরচে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে বুঝতে
পেরেছেন।
ইউরোপের দেশগুলোতে কোন সেক্টরে কাজের সুবিধা বেশি
অনেক ভাই ও বোন জব সিকার ভিসা মাধ্যমে ইউরোপ গিয়ে থাকেন। আর এই
ভিসার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোতে গেলে নিজে কাজের সন্ধান করে কাজ করতে হয়।
এক্ষেত্রে অনেকেই দেখা যায় যে সব কাজের চাহিদা নেই সেসব কাজের জন্য আবেদন
করে থাকেন। যার কারণে দেখা যায় তাকে কাজ পেতে বা চাকরি পেতে অনেক সময়
পর্যন্ত লেগে যায়। তবে সে যদি একটু সচেতন হয়ে কোন দেশগুলোতে কাজের
চাহিদা কিরকম সেটা জেনে আবেদন করে তাহলে সহজেই কাজ বা চাকরি সে পেয়ে যাবে। তাই
তার এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। চলুন জেনে নিই ইউরোপের প্রায় সব
দেশে কোন কোন সেক্টরে কাজের চাহিদা বেশি-
- আইটি ও টেকনোলজি
- স্বাস্থ্যসেবা খাত
- পরিবহন খাত
- ইঞ্জিনিয়ারিং
- চিকিৎসা খাত
- স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ
- কৃষি ও মৌসুমী খাত
- হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম ইত্যাদি
এ সকল সেক্টরে ইউরোপের প্রায় সব দেশেই কাজের চাহিদা রয়েছে। তাই
ইউরোপের যে কোন দেশে গিয়ে আপনি এ সকল কাজের জন্য আবেদন করলে সহজেই কাজ পেয়ে
যাবেন। আশা করি আপনি পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে বয়স কত লাগে
ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বয়স অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে কাউকে
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়া হয় না। তবে কিছু কিছু দেশে স্টুডেন্ট ভিসায়
আপনি যেতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তার মা-বাবাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ১৮
বছরের কম বয়সি সন্তান ইউরোপে দেশে যাচ্ছে। আপনি যদি ইউরোপ
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপের দেশে যেতে চান তাহলে আপনার বয়স ১৮ প্লাস হতে
হবে।
আরো পড়ুনঃ
মেয়েদের জন্য ঘরে বসে আয় করার উপায়
মূলত ইউরোপের দেশগুলো ১৮ থেকে ৪৫ বছরের শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।তবে
৪৫ বছরের বেশি হয়ে গেলে কোম্পানিগুলো তাদের আর নিতে চায় না। আবার ইউরোপের
কিছু দেশ রয়েছে যেমন নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে যদি যেতে চান তাহলে আপনাকে
দক্ষ শ্রমিক হতে হবে পাশাপাশি কাজের অফার লেটার থাকতে হবে। এসব দেশে বয়স তেমন
কোনো বিষয় না। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ 18 বছরের নিচে এবং ৪৫ বছরের উপরে কাজে
নেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ দেখায় না।
ইউরোপ যেতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কাগজপত্র সমূহ
ইউরোপের দেশে যাওয়ার জন্য আপনার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়
কাগজপত্র সমূহের প্রয়োজন হবে। আপনি সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারলে আপনি
কখনোই বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাই আপনার অবশ্যই জানা উচিত
ইউরোপ যেতে হলে আপনাকে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং কি কি কাগজপত্র সঙ্গে
নিয়ে যেতে হবে।
আপনি যদি ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপের দেশে যেতে যান তাহলে
অবশ্যই আপনার কাজের দক্ষতা থাকতে হবে এবং এর পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা
প্রয়োজন। এগুলোর পাশাপাশি আপনাকে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে। বৈধ কাগজপত্র
ছাড়া আর কখনোই ইউরোপের দেশে বৈধভাবে প্রবেশ করতে পারবেন না। চলুন জেনে নেই
আপনাকে কোন কোন কাগজপত্র গুলো সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে-
- বৈধ পাসপোর্ট
- চাকরির অফার লেটার
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- অন্যান্য দেশে ভ্রমণের রেকর্ড (যদি থাকে)
- ভোটার আইডি কার্ড (মূল কপি)
- পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট
- ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
- মেডিকেল রিপোর্ট
- স্কিল সার্টিফিকেট (যদি কোন কাজে দক্ষতা থাকে)
- জন্ম নিবন্ধন
- রেকমেন্ডেশন লেটার ইত্যাদি।
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া প্রায় সকল দেশেই একই। তবে
একেক দেশের এক এক রকম নিয়ম কানুন রয়েছে সে দেশে যাওয়ার জন্য। ইউরোপ
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে অফার লেটার সংগ্রহ করা। আপনি
বিভিন্ন জব পোর্টাল ওয়েবসাইট বা নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অফার লেটার
সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনি যদি ইউরোপের কোন দেশে যেতে চান তাহলে প্রথমে
আপনাকে সেই দেশের অফার লেটার সংগ্রহ করতে হবে।
তারপর আপনি যখন অফার লেটার পেয়ে যাবেন তখন সেই দেশের কোম্পানি আপনার অনুমোদন
চেয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে। তারপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ
আপনার অফার লেটারটি দেখে যদি সঠিক মনে হয় তাহলে আপনাকে সে দেশে যাওয়ার অনুমতি
প্রদান করবে। এক্ষেত্রে আপনার সকল কাগজপত্র যদি বৈধ হয়ে থাকে তাহলে আপনি অনুমতি
পেয়ে যাবেন। কোন সমস্যা হবে না। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রসেসিং করার সময়
কিছু জিনিস খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় সেগুলো হল-
- অফার লেটার
- বৈধ পাসপোর্ট
- আইডি কার্ডের ছবি
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- রিকমেন্ডেশন লেটার
- পাসপোর্ট অফিসের সার্টিফিকেট এবং
- আপনার কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ইত্যাদি
এই কাগজপত্রগুলো ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখে। তারপর আপনার
সকল কাগজপত্র যদি তাদের কাছে বৈধ মনে হয় তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার জন্য
আপনাকে অনুমতি প্রদান করবে। আর যদি আপনার কাগজপত্র কোন একটা না থাকে তাহলে
আপনাকে পরবর্তী দিন সকল কাগজপত্র নিয়ে যাবার জন্য বলা হবে।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞেস করলে তারা আপনাকে বলে দিবে কোন কাগজপত্র
গুলো নিয়ে যেতে হবে। তারপর আপনি অনুমোদন পেলে আপনি যে দেশে যাবেন আপনাকে
সেই দেশের দূতাবাস থেকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। আশা করি আপনি
কিভাবে ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে সে সম্পর্কে বুঝতে
পেরেছেন।
ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- প্রশ্নঃ ইউরোপের কোন দেশে সহজেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া যায়?
- উত্তরঃ ইউরোপের দেশ পর্তুগালে সহজেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসা পাওয়া যায়। এছাড়াও পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা ও এই দেশে সহজেই পাওয়া যায়।
- প্রশ্নঃ ইউরোপ যেতে কোন কাগজপত্র গুলো লাগে?
- উত্তরঃ ইউরোপ যেতে যেসব কাগজপত্র গুলো লাগে সেগুলো হলো-
- আবেদন ফরম
- পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি
- বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা
- চাকরির অফার লেটার
- রিকমান্ডেশন লেটার
- পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট
- ট্রাভেল ইন্সুরেন্স ইত্যাদি
- প্রশ্নঃ ইউরোপে কাজের জন্য কোন দেশগুলো ভালো?
- উত্তরঃ ইউরোপে কাজের জন্য মূলত ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এই দেশগুলোতে বেশি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এবং এ দেশগুলোতে যেতে তুলনামূলক ভিসা খরচ কম হয়।
- প্রশ্নঃ ইউরোপ যেতে কত বয়স লাগে?
- উত্তরঃ শুধু ইউরোপ নয় পৃথিবীর যেকোনো দেশে যাওয়ার জন্য আপনার যদি 18 বছর হয় তাহলে আপনাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এর থেকেও কম বয়সে ইউরোপ যাওয়া যায় তবে সে ক্ষেত্রে পিতা-মাতার সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
লেখকের মন্তব্যঃ ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। ইউ ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া খুবই কঠিন
কাজ নয়। আপনার কাগজপত্র সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনি সহজেই ইউরোপ ওয়ার্ক পারমিট
ভিসা পেয়ে যাবেন। তবে আপনাকে সবকিছু সরকার অনুমোদিত ভাবে করতে হবে। এক্ষেত্রে
ভিসা প্রসেসিং হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
এই সময়টাতে আপনাকে ধৈর্য ধারণ করে থাকতে হবে এবং কোন ভুল পদক্ষেপ নেওয়া যাবে
না। তাহলে আপনার ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। ইনশাল্লাহ। আজকের এই আর্টিকেলটি
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। এরকম
প্রবাস ভ্রমণ গাইডলাইন পেতে আমাদের brieferit.com ওয়েবসাইট এর সাথেই থাকুন।
এই পোস্টটি পড়ে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনাদের বন্ধুদের
সাথে শেয়ার করুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url